সুনামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে নারকীয় হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর; ৩১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

গত ৫ আগস্ট দেশজুড়ে সরকার পতনের পরবর্তী সহিংসতা ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় এবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় এক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা লতিফুর রহমানের পরিবার। রাজনৈতিক আক্রোশেই এই হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পক্ষ থেকে ৬৭ বছর বয়সী মা সুরতুন নেছা বাদী হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সদর, সুনামগঞ্জে একটি নালিশি মামলা (নম্বর সি.আর. ২৫৬/২০২৪) দায়ের করেছেন। মামলায় ৩১ জন নামীয় এবং আরও অজ্ঞাত ৩০/৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর ছেলে লতিফুর রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় এই হামলার নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক বিদ্বেষ।

ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট মঙ্গলবার, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে। সুনামগঞ্জ সদর থানার ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসভবনে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে অভিযুক্তরা প্রবেশ করে। তারা লতিফুর রহমানের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে। সুরতুন নেছা বা পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকায় প্রতিবেশীরা প্রতিবাদ জানালে ২ ও ৩ নম্বর আসামি অন্যদের ঘরবাড়ি ভেঙে, লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

হামলাকারীরা তখন ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং স্টিলের শোকেস থেকে নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে। এছাড়াও একটি ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি ও একটি সিঙ্গার মাইক্রো ওভেন সহ সর্বমোট প্রায় ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা।

লুটপাটের পাশাপাশি হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে আসবাবপত্র, ফ্রিজ, এসি, দরজা, জানালা এবং ঘরের দেয়ালে ব্যাপক আঘাত করে প্রায় ২ লাখ টাকার সম্পত্তি নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদী তার অভিযোগে আরও জানান, এলাকার মানুষের চিৎকার ও ভাঙচুরের শব্দ শুনে সাক্ষীসহ আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় লতিফুর রহমানকে না পেয়ে তাঁকে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫ আগস্টের পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে এবং গত ১৮ আগস্ট সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী আসামিদের কারণে অভিযোগ নিতে রাজি হয়নি। তাই নিরূপায় হয়ে লতিফুর রহমানের মা ১৯ আগস্ট আদালতে এই নালিশি মামলাটি দায়ের করেন।

বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন লতিফুর রহমানের মা। তিনি জানান, তার ও তার সন্তানদের জীবন নাশের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।