খালেদা জিয়া ব্যথায় হাঁটতে পারছেন না: রিজভী

admin
প্রকাশিত মে ১৯, ২০১৮
খালেদা জিয়া ব্যথায় হাঁটতে পারছেন না: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক :

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘পায়ের ব্যথায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাঁটতে পারছেন না। কারাগারে দেশনেত্রী গুরুতর অসুস্থ। দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তিনি হাত ও পায়ের ব্যথায় প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছেন। ব্যথায় হাঁটতে পারছেন না। ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না।’

শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

পবিত্র মাহে রমজানেও খালেদা জিয়ার ওপর সর্বোচ্চ জুলুম চলছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী।এমনকি দলটির চেয়ারপারসনকে তিলে তিলে শেষ করে দিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জামিনযোগ্য মামলায় তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।

রিজভী বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন দেওয়ার পরও কীভাবে একজন বয়স্ক নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। তাকে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। পবিত্র রমজানেও তার ওপর জুলুম চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জাল নথি তৈরির মাধ্যমে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সাজা দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এখনও তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। খালেদা জিয়া যেসব মামলায় জামিনে ছিলেন, সেসব মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ’

সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই নানা ফন্দি-ফিকির করছে কিভাবে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রহসনের নির্বাচন করা যায়। কিন্তু এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে, বিএনপিকে মাইনাস করে নির্বাচন করবেন, সেই প্রহসন আর এ দেশে হতে দেওয়া হবে না। এ দেশে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে থাকবেন খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন জনগণ হতে দিবে না।’

বিএনপি আগামী নির্বাচন থেকে আস্তে আস্তে দুরে সরে যাচ্ছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব, বিএনপি দূরে সরে যাচ্ছে না বরং আপনারাই নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন, ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি করার জন্য।

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ে তিনি বলেন, এই পবিত্র রমজানে দেশব্যাপী নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সীমাহীন মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষকে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে ১২টি সংস্থাকে নাকি সরকার নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে এসব সংস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যন্ত বেড়েছে। গ্যাস অধিকাংশ সময়ই থাকে না,যদিও কখনও আসে তাতে আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলে, এতে রান্না দূরে থাক, পানিও গরম হয় না।

খুলনা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলেও গণতন্ত্র হেরেছে উল্লেখ করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। শুধু দেশবাসী নয়, বিশ্বাবাসীর কাছে এটা পরিস্কার হয়ে গেছে যে, এই নির্বাচন কমিশনের দ্বারা সুষ্ঠু ভোট আয়োজন সম্ভব নয়। সুতরাং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন অত্যন্ত জরুরি।’

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ নানা গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশ বিক্রি করে দিতে পারেন তাঁর কাছে গণতন্ত্রই বা কী আর অবাধ নির্বাচনই বা কী, কোনোটিরই কোনো দাম নেই। ক্ষমতার আমলকি করতলে ধরে রাখার জন্য তারা এহেন অনাচার নেই যেটি করছেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে খায়রুল কবীর খোকন, আবুল খায়ের ভূইয়া, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মুনির হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।