ডেস্ক রিপোর্ট:
খাগড়াছড়িতে মারধরের অভিযোগে এক আসামির ব্যতিক্রম সাজা দিয়েছেন আদালত। আসামিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে কারাগারের পরিবর্তে নিজ বাড়িতেই এই সাজা ভোগ করবেন তিনি।
১৭ ডিসেম্বর আসামিকে বিশেষ শর্তে এই কারাদণ্ড দেন খাগড়াছড়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সামিউল আলম।
আসামির নাম আবদুস সামাদ। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলার লাম্বাছড়া গ্রামে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ১১ শর্ত ও সাজার রীতি মেনে এখন বাড়িতেই থাকবেন তিনি। আদালতের ব্যতিক্রমী এ আদেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, এ রায় অনুসরণ করলে প্রথমবারের মতো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বড় অপরাধ থেকে দূরে রাখা যাবে, যার ফলে সমাজে অপরাধ কমবে।
রোববার আসামি পক্ষেরআইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জানান, এমন রায় খাগড়াছড়িতে প্রথম। প্রবেশন সংক্রান্ত হাইকোর্টের বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখের সার্কুলার নং জে-০১/২০১৯ অনুসারে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহীন হোসেন জানান, মাটিরাঙা উপজেলার লাম্বাছড়া গ্রামের আবদুর রহমান মিয়া ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মারধরের অভিযোগে আবদুস সামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৭ ডিসেম্বর সামাদকে বিশেষ শর্তে কারাদণ্ড দেন খাগড়াছড়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সামিউল আলম।
সেই আদেশ মতে আসামিকে জেলহাজতে না পাঠিয়ে কারাদণ্ড স্থগিত করে সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসারের কাছে প্রি-সেন্টেস রিপোর্ট তলব করেন আদালত।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার ২ জানুয়ারি আসামি সামাদের অপরাধ ‘দি প্রবেশন অব অপেন্ডারস অ্যাক্ট, ১৯৬০ এর ৪(১)’ ধারা মতে, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে, মামলাটি প্রবেশনযোগ্য বলে জানান।
সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত জানায়, কারাদণ্ডকালীন ছয় মাস ১১ শর্ত মেনে বাড়িতেই থাকবেন সামাদ।
খাগড়াছড়ি আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার উদ্দিন মামুন রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিচারক সামিউল আলম শুধু প্রবেশন সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি, তিনি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জেলখানার অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে বাঁচিয়েছেন।